64°F বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

'হিডন হাঙ্গার': পেট ভরলেও পুষ্টিহীনতায় ভুগছে শিশুরা, বিপদের মুখে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ৩১ জানু ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২২
'হিডন হাঙ্গার': পেট ভরলেও পুষ্টিহীনতায় ভুগছে শিশুরা, বিপদের মুখে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

'হিডন হাঙ্গার': পেট ভরলেও পুষ্টিহীনতায় ভুগছে শিশুরা, বিপদের মুখে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

শিশু পেট ভরে খাচ্ছে, শরীরও বেশ স্বাস্থ্যবান—এমনটা দেখে অনেক অভিভাবকই নিশ্চিন্ত থাকেন। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এনেছে। সংস্থাটির মতে, পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ার পরেও বিশ্বের প্রায় ২০ লক্ষ শিশু প্রতি বছর অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হচ্ছে ‘হিডন হাঙ্গার’ বা ‘লুকানো খিদে’

কী এই ‘হিডন হাঙ্গার’?

সাধারণত পেট খালি থাকাকে আমরা খিদে বলি। কিন্তু ‘হিডন হাঙ্গার’ হলো শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের অভাব। আয়রন, জিংক, ক্যালশিয়াম এবং ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, এ, ডি, ই, কে-র মতো মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস বা অণুপুষ্টির ঘাটতি থাকলে শিশু শারীরিকভাবে সুস্থ দেখালেও ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। এটিই হলো লুকানো খিদে।

কেন বাড়ছে এই ঝুঁকি?

পুষ্টিবিদদের মতে, বর্তমান জীবনযাত্রার কিছু অভ্যাস শিশুদের এই বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে:

  • প্রক্রিয়াজাত খাবারের নেশা: চিপস, কেক বা প্যাকেটজাত সিরিয়াল খেয়ে পেট ভরলেও তাতে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকে না।
  • রংচঙে মোড়কের আকর্ষণ: বিজ্ঞাপনের চাকচিক্য আর খেলনার লোভে শিশুরা অস্বাস্থ্যকর খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে।
  • বাছাই করে খাওয়ার অভ্যাস: অনেক শিশুই শাকসবজি বা ফল খেতে চায় না। এর ফলে শরীর প্রয়োজনীয় খনিজ থেকে বঞ্চিত হয়।
  • ব্যস্ত অভিভাবক ও ফাস্টফুড: সময়ের অভাবে অনেক বাবা-মা শিশুদের নুডলস বা পাস্তার মতো চটজলদি খাবারে অভ্যস্ত করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।

অণুপুষ্টির অভাবে যেসব সমস্যা হতে পারে

শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের অভাব ঘটলে শিশুদের বিকাশে নানা বাধা সৃষ্টি হয়: ১. মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত: জিংক ও ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে। ২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস: ভিটামিন সি এবং এ-র অভাবে শিশু বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। ৩. শারীরিক জটিলতা: আয়রনের অভাবে রক্তাল্পতা এবং ভিটামিন ডি-র অভাবে হাড়ের গঠন দুর্বল হয়ে যায়। ৪. দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি: এই ঘাটতি বজায় থাকলে ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা হার্টের সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সমাধানের পথ কী?

চিকিৎসকদের মতে, সমাধানের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে ঘরের খাবারে।

  • শিশুর পাতে নিয়মিত মৌসুমি ফল ও রঙিন শাকসবজি রাখতে হবে।
  • মাছ, মাংস, ডিমের পাশাপাশি বাদাম ও শস্যদানা জাতীয় খাবার খাওয়ানো জরুরি।
  • ময়দার তৈরি নুডলস বা পিৎজার বদলে পুষ্টিকর ঘরোয়া খাবারকে মুখরোচক করে তুলে ধরতে হবে।

শিশুর শুধু পেট ভরানোই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়, বরং তার খাবার কতটুকু পুষ্টিকর—সেদিকে নজর দেওয়াই এখন সময়ের দাবি।