চীন থেকে চারটি জাহাজ কেনার কাঠামো চুক্তি সই, সামুদ্রিক সক্ষমতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশের
দেশের জাহাজ চলাচল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক স্বায়ত্তশাসন জোরদারের লক্ষ্যে চীন থেকে চারটি জাহাজ কেনার জন্য একটি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। চীন-বাংলাদেশ আন্তঃসরকারি সহযোগিতার আওতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
বুধবার ঢাকায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, চীনের রেয়াতি ঋণের অর্থায়নে বাংলাদেশের জন্য চারটি নতুন জাহাজ নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে দুটি অপরিশোধিত তেল পরিবহনকারী ট্যাঙ্কার এবং দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার। এসব জাহাজ দেশের জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এক বিবৃতিতে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশের নৌপরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদেশিক বাণিজ্যের আরও সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এটি দেশের সামুদ্রিক স্বায়ত্তশাসন ও লজিস্টিক সক্ষমতা উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের জনগণের প্রতি সুপ্রতিবেশীসুলভ নীতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন জাহাজগুলো যুক্ত হলে দেশের নিজস্ব জাহাজ বহরের সক্ষমতা বাড়বে, বিদেশি জাহাজের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল ও বাল্ক পণ্য পরিবহনে এই জাহাজগুলো দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সুবিধা এনে দেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নিজস্ব জাহাজ বহর শক্তিশালী করা বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। চীনের সহায়তায় নেওয়া এই প্রকল্প ভবিষ্যতে দেশের সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে