76°F রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

বোস্টন: ইতিহাসের পথ ধরে আধুনিকতার শহর

Rokon Pathan, Boston Bangla

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৩৩
বোস্টন: ইতিহাসের পথ ধরে আধুনিকতার শহর

কুয়াশার চাদরে মোড়া এক নগরীর গল্প-

ভোরের কুয়াশা তখনো পুরোপুরি কাটেনি। চারপাশে হালকা ঠান্ডা, বাতাসে সমুদ্রের আর্দ্রতা আর শহরের এক ধরনের নীরব ছন্দ। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ঐতিহাসিক নগরী বোস্টন ঠিক এভাবেই দিন শুরু করে; ধীরে, কিন্তু গভীরতায় ভরপুর। প্রথমবার এই শহরে পা রাখার অনুভূতি অনেকটা এমন, যেন ইতিহাসের বইয়ের ভেতরে ঢুকে পড়েছি; যেখানে প্রতিটি রাস্তা, প্রতিটি ইট, প্রতিটি পুরোনো ভবন কোনো না কোনো গল্প বলে।


 

হাডসন নদীর মুখ থেকে মেইন উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক রাজধানী এই শহরটি । মাত্র তিন বর্গকিলোমিটার আয়তনের শওমুট উপদ্বীপে যাত্রা শুরু করেছিল যে বসতি, আজ তা ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশের বিশাল এলাকা জুড়ে। কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস, এক মহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, আর আধুনিক বিশ্বের উদ্ভাবনের অগ্রপথিক; সব মিলিয়ে বোস্টন হয়ে উঠেছে এক অনন্য নগরী।


 

শওমুট উপদ্বীপে এক পিউরিটান বসতি; 

আদি অধিবাসী থেকে ইংরেজ আগমন-বোস্টনের ইতিহাস ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীদের অনেক আগে থেকেই শুরু। শওমুট উপদ্বীপে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসতির প্রমাণ পাওয়া যায় খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ সাল থেকে । এই ছোট উপদ্বীপটির তিনটি পাহাড় ছিল, তাই আদিবাসীরা একে ডাকত ‘ট্রিমাউন্টেইন’ নামে।


 

১৬২৫ সালে প্রথম ইউরোপীয়ান হিসেবে উইলিয়াম ব্ল্যাকস্টোন এই উপদ্বীপে এসে বসতি স্থাপন করেন। তিনি বীকন হিলের পাদদেশে বসবাস শুরু করেন; যেখানে ছিল একটি মিষ্টি পানির ঝরনা, যা আজ বোস্টন কমনের ভেতরে অবস্থিত ।


 

১৬৩০ সালটি বোস্টনের ইতিহাসে এক মাইলফলক। চার্লস নদের অপর পাড়ে চার্লসটাউনে বসতি স্থাপন করেছিলেন জন উইনথ্রপ ও তাঁর পিউরিটান অনুসারীরা। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত মিষ্টি পানির অভাব ছিল। ব্ল্যাকস্টোনের ঝরনার খবর পেয়ে তাঁরা চার্লস নদ পার হয়ে শওমুট উপদ্বীপে আসেন এবং এখানে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন । ১৬৩০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর (পুরনো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী) এই বসতির নামকরণ করা হয় ‘বোস্টন’; ইংল্যান্ডের লিংকনশায়ারের সেই শহরের নামে, যেখান থেকে অনেক বিশিষ্ট বসতি স্থাপনকারী এসেছিলেন ।


 

১৬৩২ সালে এই বসতি ম্যাসাচুসেটস বে উপনিবেশের রাজধানীতে পরিণত হয় । ১৬৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বোস্টন কমন; আমেরিকার সবচেয়ে পুরনো পাবলিক পার্ক, যা আজও শহরের প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে । ১৬৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বোস্টন ল্যাটিন স্কুল, যা আমেরিকার প্রথম পাবলিক স্কুল ।


 

বন্দরনগরীর উত্থান-

সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ নাগাদ বোস্টন ম্যাসাচুসেটস বে উপনিবেশের সবচেয়ে বড় শহরে পরিণত হয় । ১৭১৫ সালে নির্মিত হয় লং হোয়ার্ফ; ৫০০ মিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই পিয়ারটি সে সময় আমেরিকার সবচেয়ে বড় বন্দর নির্মাণগুলোর একটি ছিল । ১৭২০ সালের মধ্যে বোস্টন আমেরিকার প্রধান বন্দর এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের তৃতীয় বৃহত্তম বন্দরে পরিণত হয় । কড মাছের বাণিজ্যই ছিল এই বন্দরের প্রাণ ।


 

শহরের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কর্নহিল স্ট্রিট (বর্তমানে ওয়াশিংটন স্ট্রিট) ও কিং স্ট্রিটের (বর্তমানে স্টেট স্ট্রিট) মোড় । এখানেই ১৬৫৭ সালে নির্মিত হয় টাউন হাউস; শহরের প্রথম প্রশাসনিক ভবন। ১৭১১ সালে অগ্নিকাণ্ডে এটি ধ্বংস হয়ে গেলে, ১৭১৩ সালে ইট দিয়ে তৈরি করা হয় ওল্ড স্টেট হাউস, যা আজও বোস্টনের সবচেয়ে পুরনো দাঁড়িয়ে থাকা সরকারি ভবন ।


 

দ্বিতীয় অধ্যায়: স্বাধীনতার অগ্রপথিক; বোস্টন টি পার্টি থেকে বিপ্লব : প্রতিবাদের সূচনা-

১৭৬০-এর দশকে ব্রিটিশ সরকার আমেরিকার উপনিবেশগুলোর ওপর নানা কর আরোপ করতে শুরু করে। ১৭৬৫ সালে স্ট্যাম্প অ্যাক্টের বিরুদ্ধে বোস্টনে প্রথম প্রতিবাদ শুরু হয় । ১৭৬৮ সালে ব্রিটিশ সরকার আমেরিকান কাস্টমস বোর্ডের সদর দপ্তর বোস্টনে স্থানান্তর করে । সেই বছরই ১০ জুন কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়, এবং অক্টোবরে ব্রিটিশ সেনারা বোস্টনে আসতে শুরু করে ।


 

১৭৭০ সালের ৫ মার্চ ঘটে যায় বোস্টন হত্যাকাণ্ড (Boston Massacre)। ব্রিটিশ সেনাদের ওপর বিক্ষুব্ধ জনতা পাথর নিক্ষেপ করলে সেনারা গুলি চালায়, পাঁচ জন নিহত হন । এই ঘটনা উপনিবেশগুলোর মধ্যে বিপ্লবী চেতনাকে আরও উসকে দেয়।


 

বোস্টন টি পার্টি: চায়ের সাগরে এক নতুন ইতিহাস-

১৭৭৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ব্রিটিশ সরকারের চায়ের ওপর আরোপিত করের প্রতিবাদে একদল উপনিবেশবাসী, যারা নিজেদের ‘সন্স অফ লিবার্টি’ নামে ডাকত, তারা স্থানীয় মোহিক জনগোষ্ঠীর পোশাক পরে তিনটি ব্রিটিশ জাহাজে চড়ে চায়ের ৩৪২টি বাক্স সমুদ্রে ফেলে দেয় । এই ঘটনাটি ‘বোস্টন টি পার্টি’ নামে ইতিহাসে পরিচিত।


 

ব্রিটিশ সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র। ১৭৭৪ সালের ৩১ মার্চ ‘বোস্টন পোর্ট বিল’ পাস করা হয়, যা বোস্টন বন্দরের বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় । এটি ছিল উপনিবেশগুলোর ওপর ব্রিটিশ দমন-পীড়নের অংশ, যা ‘অসহনীয় আইন’ (Intolerable Acts) নামে পরিচিত।


 

বিপ্লবের আগুন-

১৭৭৫ সালের ১৯ এপ্রিল বোস্টনের উপকণ্ঠে লেক্সিংটন ও কনকর্ডে ব্রিটিশ সেনাদের সঙ্গে উপনিবেশবাসীদের সশস্ত্র সংঘর্ষ শুরু হয়; এটিই ছিল আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা। একই দিনে বোস্টন অবরোধ শুরু হয় । ১৭৭৫ সালের ১৭ জুন বোস্টন harbour-এর প্রান্তে বাঙ্কার হিলের যুদ্ধ সংঘটিত হয় ।


 

অবরোধ চলতে থাকে প্রায় এক বছর। ১৭৭৬ সালের ১৭ মার্চ ব্রিটিশ সেনারা বোস্টন ছেড়ে যায় । এই দিনটি আজও ‘ইভাকুয়েশন ডে’ নামে ম্যাসাচুসেটস রাজ্যে পালিত হয়।


 

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বোস্টনের গুরুত্ব কমেনি। ১৭৮৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ম্যাসাচুসেটস যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুমোদন করে, এবং বোস্টন নতুন জাতির অংশ হয়ে ওঠে । ১৭৮৯ সালে জর্জ ওয়াশিংটন প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর বোস্টনে তাঁর সংবর্ধনা দেওয়া হয় ।


 

পাহাড় চ্যাপ্টা করে শহর গড়া; উনিশ শতকের রূপান্তর। ভূমিরূপ বদলে দেওয়া অভিযান-


স্বাধীনতার পর বোস্টন দ্রুত বাণিজ্যিক ও শিল্প নগরীতে পরিণত হয়। কিন্তু শহরের মূল উপদ্বীপটির আয়তন ছিল মাত্র ৭৮৩ একর । শহরকে বড় করতে হলে প্রয়োজন ছিল নতুন জমির। উনিশ শতকে বোস্টন তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভূমি পুনরুদ্ধার অভিযান চালায়।


 

উপদ্বীপের তিনটি পাহাড়; বীকন হিল, পেম্বারটন হিল ও মাউন্ট ভার্নন হিল; কেটে ফেলা হয়। সেই মাটি দিয়ে ভরাট করা হয় শহরের চারপাশের জলাভূমি ও উপসাগরীয় অঞ্চল। এই অভিযানে শহরের আয়তন তিনগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায় । বোস্টন harbour-এর লাইন সম্পূর্ণ বদলে যায়। পূর্বে যে অঞ্চল ছিল জোয়ার-ভাটার জলাভূমি, সেখানে গড়ে ওঠে নতুন পাড়া; ব্যাক বে, সাউথ বোস্টন, ইস্ট বোস্টন।


 

১৮৩০ সালে বোস্টন কমন, যা আগে ছিল সাধারণ চারণভূমি ও সামরিক ফাঁসির স্থান, রূপান্তরিত হয় পাবলিক পার্কে । ১৮৩৭ সালে এর পাশে যুক্ত হয় পাবলিক গার্ডেন । বীকন হিলের উত্তর দিকের পাহাড় কেটে ফেলার পর সেখানে নির্মিত হয় নতুন স্টেট হাউস; ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের সরকার ভবন । এই এলাকা আজ বোস্টনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক পাড়াগুলোর একটি।


 

রেলপথ ও শিল্পায়ন-

১৭৮৬ সাল থেকে চার্লস নদের ওপর একের পর এক সেতু নির্মিত হতে থাকে, যা বোস্টনকে প্রতিবেশী শহর কেমব্রিজ ও চার্লসটাউনের সাথে সংযুক্ত করে । ১৮৩০-এর দশকে বোস্টনে রেলপথ আসে । রেলপথ শহরকে দেশের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের সাথে যুক্ত করে, পণ্য পরিবহন সহজ করে, এবং শহরের সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করে।


 

১৯ শতকের শেষ দিকে বোস্টন শিল্প নগরীতে পরিণত হয়। আয়ারল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা এখানে কাজের সন্ধান পান। আয়ারিশ অভিবাসীরা বোস্টনের জনসংখ্যার একটি বড় অংশে পরিণত হন। এই সময়েই বোস্টনে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয় এবং আশপাশের ছোট শহরগুলোর সঙ্গে একীভূত হয়ে বর্তমান বোস্টন সিটি গঠিত হয় ।


 

ব্যাক বে এলাকার পুনরুদ্ধার ছিল এই শতকের আরেক বড় প্রকল্প। চার্লস নদের পশ্চিম দিকের জলাভূমি ভরাট করে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয় এক নতুন পাড়া। প্যারিসের হাউসম্যানের নকশার প্রভাবে এখানে তৈরি হয় সুবিন্যস্ত রাস্তাঘাট, কেন্দ্রীয় বুলেভার্ড । ১৮৭৭ সালে বিখ্যাত ল্যান্ডস্কেপ স্থপতি ফ্রেডরিক ল ওল্মস্টেড ডিজাইন করেন বেক বে ফেন্স; শহরের সবুজ করিডোরের অংশ ।


 

চতুর্থ অধ্যায়: উদ্ভাবনের শহর; বায়োটেক ও ডিজিটাল যুগ। অর্থনৈতিক রূপান্তর-

বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বোস্টনের শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি পতনের মুখে পড়ে। পুরনো কারখানাগুলো অচল হয়ে যায়। কিন্তু ১৯৭০-এর দশক থেকে বায়োটেকনোলজি শিল্পের বিকাশের সাথে সাথে বোস্টন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় । আজ বোস্টন-কেমব্রিজ এলাকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় বায়োটেক ক্লাস্টার।


 

২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাসাচুসেটসের লাইফ সায়েন্সেস সেক্টরে প্রায় ৭৫,০০০ জন কর্মী নিয়োজিত । ২০২৫ সালে ম্যাসাচুসেটসের বায়োটেক কোম্পানিগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট বায়োটেক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডিংয়ের ২৬ শতাংশের বেশি পেয়েছে, যা ক্যালিফোর্নিয়ার পরেই দ্বিতীয় অবস্থান ।


 

বোস্টনের উদ্ভাবনী অর্থনীতির সাফল্যের পরিচয় পাওয়া যায় লেক্সিসনেক্সিসের ‘টপ ১০০ গ্লোবাল ইনোভেটরস’ তালিকায়। ২০২৬ সালে এই তালিকায় স্থান পেয়েছে বোস্টন এলাকার পাঁচটি প্রতিষ্ঠান; যা এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ অবস্থান । কেমব্রিজভিত্তিক অ্যালনাইলাম ফার্মাসিউটিক্যালস ও মডার্নার সঙ্গে প্রথমবারের মতো স্থান পেয়েছে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম ফ্ল্যাগশিপ পাইওনিয়ারিং, ওয়াটারটাউনের অর্না থেরাপিউটিক্স, এবং নীধামের গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারক শার্কনিঞ্জা ।


 

লেক্সিসনেক্সিসের মতে, বোস্টন এই তালিকায় লস অ্যাঞ্জেলেসের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় স্থানে রয়েছে; শুধুমাত্র সিলিকন ভ্যালি (১১টি) ও নিউ ইয়র্ক সিটি (৮টি)-এর পরে । যদি বোস্টনকে একটি দেশ হিসেবে ধরা হয়, তবে এটি বিশ্বের ষষ্ঠ স্থানে থাকবে; যুক্তরাষ্ট্র (৪৬টি), জার্মানি (৯টি), চীন (৭টি), দক্ষিণ কোরিয়া (৭টি) ও জাপান (৭টি)-এর পরে ।


 

অবকাঠামো উন্নয়ন-

২০২৬ সালে বোস্টনের পরিবহন অবকাঠামোতে ব্যাপক বিনিয়োগ চলছে। নর্থ স্টেশন ড্র ওয়ান ব্রিজ প্রতিস্থাপন প্রকল্পটি ম্যাসাচুসেটসের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রেল অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি। ৪৭২.৩ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল অনুদানে সমর্থিত এই প্রকল্পটি ১৫,৬০০-এর বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে । ১৯৩১ সালে নির্মিত পুরনো সেতুটি প্রতিস্থাপন করে চার লাইন থেকে ছয় লাইনে উন্নীত করা হবে, যা নর্থ স্টেশনের ধারণক্ষমতা ১২টি ট্র্যাকে উন্নীত করবে ।


 

একই সময়ে ব্যাক বে স্টেশন সংস্কার প্রকল্পের কাজও চলছে। এই প্রকল্পে স্টেশনের অভ্যন্তরীন অংশ সম্পূর্ণ রূপান্তরিত হবে, যাতে যাত্রী চলাচল সহজ হবে, আধুনিক আলো ও অডিও সরঞ্জাম বসানো হবে, এবং অপেক্ষার স্থান ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে । সাইকেল পার্কিং বাড়বে ৪৯ শতাংশ, এবং খুচরা স্থান বৃদ্ধি পাবে ২০৯ শতাংশ । প্রকল্পটির প্রথম ধাপ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছে এবং ২০২৭ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ।


 

পঞ্চম অধ্যায়: চার ঋতুর খেলা; বোস্টনের আবহাওয়া। কঠোর শীত থেকে রঙিন শরৎ-

বোস্টনের আবহাওয়া চারটি স্বতন্ত্র ঋতুতে বিভক্ত, যা শহরের জীবনযাত্রার ছন্দ নির্ধারণ করে। শীতকাল সাধারণত ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই সময় তাপমাত্রা গড়ে ২০ থেকে ৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে ওঠানামা করে, অনেক সময় শূন্যের নিচে নেমে যায় । তুষারপাত এই ঋতুর নিয়মিত সঙ্গী, কখনও কখনও এক শীতে কয়েক ফুট তুষার জমে যায় । উত্তরের বাতাস (নোর’ইস্টার) ভারী তুষার ও ঝড় বয়ে আনে, যা যাতায়াত ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটায় ।


 

বসন্তকাল মার্চ থেকে মে পর্যন্ত। এপ্রিল মাসে ‘এপ্রিল শাওয়ার্স’; অঝোর ধারার বৃষ্টি; শহরকে সতেজ করে তোলে । তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, ৪০ থেকে ৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে ওঠানামা করে । পার্কে ফুটে ওঠে চেরি ফুল, টিউলিপ, নানা বর্ণের ফুল। এই ঋতুতে আবহাওয়া বেশ অনির্দেশিত; একদিন গ্রীষ্মের মতো গরম, পরের দিন শীতের মতো ঠান্ডা ।


 

গ্রীষ্মকাল জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত। এই সময় তাপমাত্রা ৮০ থেকে ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে ওঠে, কখনও কখনও ৯০-এর কাছাকাছি চলে যায় । আর্দ্রতা অনেক সময় অস্বস্তিকর মাত্রায় পৌঁছায় । গ্রীষ্মকাল বোস্টনের সবচেয়ে ব্যস্ত পর্যটন মৌসুম, যখন বহিরঙ্গন কনসার্ট, উৎসব, সমুদ্র সৈকতে ভিড় জমে ।


 

শরৎকাল সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত। সেপ্টেম্বরে তাপমাত্রা ৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি থাকলেও নভেম্বরের মধ্যে ৪০-৫০ ডিগ্রিতে নেমে আসে । এই ঋতুতে শহর রঙিন হয়ে ওঠে; লাল, কমলা, হলুদ পাতায় ছেয়ে যায় গাছগুলো । এটি অনেকের কাছে বোস্টনের সবচেয়ে সুন্দর ঋতু ।


 

ষষ্ঠ অধ্যায়: প্রবাসী বাংলাদেশি ও বাংলা সংস্কৃতি; হারিয়ে না যাওয়া শেকড়। বাংলা-ও-বিশ্ব: চার দশকের সাংস্কৃতিক সেতু-


 

প্রবাসী বাংলাদেশি ও পশ্চিমবঙ্গীয় বাঙালিদের জন্য বোস্টন এলাকায় সাংস্কৃতিক চর্চার অন্যতম কেন্দ্র হলো ‘বাংলা-ও-বিশ্ব’ (Bangla-O-Biswa)। নামটির অর্থ ‘বিশ্বে বাংলা’ । ১৯৮১ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগত অভিবাসীদের হাত ধরে মাত্র পাঁচটি পরিবার নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি আজ প্রায় ১,০০০ সদস্যের একটি বড় সংগঠনে পরিণত হয়েছে ।


 

সংগঠনটি সারা বছর ধরে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধান উৎসবগুলো হলো:

দুর্গাপূজা (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর): বাংলা-ও-বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান। কলকাতা থেকে আনা কাগজের মূর্তি ব্যবহার করে পূজা সম্পন্ন হয় । পশ্চিমবঙ্গে নয় দিনের এই উৎসব আমেরিকায় দুই দিনে সংক্ষিপ্ত করা হয় কর্মব্যস্ততার কারণে। পূজার দিন ভক্তরা ঐতিহ্যবাহী শাড়ি-ধুতি পরে আসেন, অঞ্জলি দেন, প্রসাদ গ্রহণ করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে থাকে গান, নাচ, আবৃত্তি, নাটক । ২০২৫ সালের দুর্গাপূজা অ্যান্ডোভার হাইস্কুলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে বিশিষ্ট শিল্পী শিলাজিৎ মজুমদারের গান পরিবেশন ছিল অন্যতম আকর্ষণ ।

· কালীপূজা (অক্টোবর): বাংলা-ও-বিশ্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ।

· সরস্বতী পূজা (ফেব্রুয়ারি): বিদ্যার দেবীর আরাধনা। ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি অ্যাক্টনের ৪৩৫ সেন্ট্রাল স্ট্রিটে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ।

· বাংলা নববর্ষ (এপ্রিল) ও গ্রীষ্মকালীন পিকনিক (জুন) ।


 

প্রথম ১৪ বছর এই সংগঠন- ওয়াটারটাউনের একটি মেথডিস্ট চার্চে অনুষ্ঠান করলেও পরে স্থান সংকুলানের সমস্যায় মেনার্ড পাবলিক হাইস্কুলের ক্যাফেটেরিয়া ও অডিটোরিয়াম ভাড়া নেওয়া শুরু করে । বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে ভেন্যু পরিবর্তিত হচ্ছে; ২০২৬ সালের সরস্বতী পূজা হয় অ্যাক্টনে, ২০২৫ সালের দুর্গাপূজা হয় অ্যান্ডোভারে ।


 

সাংস্কৃতিক সংগঠনের বৈচিত্র্য-

বাংলা-ও-বিশ্ব ছাড়াও বোস্টন এলাকায় আরও অনেক বাংলাদেশি ও বাঙালি সাংস্কৃতিক সংগঠন সক্রিয়। অফ-কেন্দ্রিক (Off-Kendrik) নামের একটি সংগঠন প্রতি বছর ‘সাথ ফেস্ট’ (SAAThFest) আয়োজন করে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থান থেকে দক্ষিণ এশীয় নাট্যদল অংশ নেয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ওয়াটারটাউনের মোসেসিয়ান সেন্টার ফর আর্টস-এ আয়োজিত এই উৎসবে চারটি ভাষায় দশটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল, সঙ্গে ছিল ‘নারী শিল্পী, পরিচালক ও নাট্যকর্মীদের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা ।


 

২০২৫ সালের অক্টোবরে বাংলা-ও-বিশ্বের দুর্গাপূজায় মঞ্চস্থ হয় ‘লুনা ওয়েডস ফিন’ (Luna Weds Finn)- মাছের বিয়ে নিয়ে মেদিনীপুরের পটুয়া গানের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি নাটক । এটি প্রবাসে বাংলার লোকসংস্কৃতিকে ধারণ ও পরিবেশন করার এক অনন্য উদাহরণ।


 

বাংলা-ও-বিশ্বের সদস্যদের বেশিরভাগই প্রথম প্রজন্মের অভিবাসী, যারা ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে নিউ ইংল্যান্ডে এসেছিলেন । তাঁদের সন্তান-সন্ততিরা সংগঠনের তরুণ সদস্যদের বড় অংশ। এই দ্বিতীয় প্রজন্মের জন্য সংগঠনটির কার্যক্রম বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে যুক্ত থাকার এক গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করে ।


 

সপ্তম অধ্যায়: বোস্টনের প্রবাসী জীবন-সংগ্রাম ও সম্ভাবনা। জীবনযাত্রার ব্যয়-

বোস্টন আমেরিকার সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরগুলোর একটি। আবাসন ভাড়া জাতীয় গড় থেকে অনেক বেশি, যা নতুন অভিবাসীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শহরের নিরাপত্তা, শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ মানুষকে এই চ্যালেঞ্জ মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করে।


 

কর্মসংস্থানের সুযোগ-

বায়োটেক, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, এবং আর্থিক সেবা; বোস্টনের অর্থনীতির প্রধান খাতগুলোতে দক্ষ পেশাজীবীদের চাহিদা বেশি। ম্যাসাচুসেটসের লাইফ সায়েন্সেস সেক্টর ২০২৫ সালে ৬.৮৫ বিলিয়ন ডলার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডিং আকর্ষণ করেছে । যদিও এটি কোভিড-পূর্ব সময়ের তুলনায় কম, শিল্প বিশ্লেষকরা এটিকে বাজারের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা হিসেবে দেখছেন ।


 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে অনেকেই চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, সফটওয়্যার ডেভেলপার, শিক্ষাবিদ, উদ্যোক্তা হিসেবে সাফল্যের সাথে কাজ করছেন। ডোরচেস্টার, কুইন্সি, মালডেন, সোমারভিলের মতো এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটি ঘনবসতিপূর্ণ। ডোরচেস্টারের কোনো রাস্তায় হাঁটলে হঠাৎই চোখে পড়ে বাংলা সাইনবোর্ড, কোনো রেস্তোরাঁ থেকে ভেসে আসে ভর্তা-ভাতের গন্ধ, আবার কোথাও হয়তো শুনতে পাওয়া যায় রবীন্দ্রসঙ্গীত।


 

দ্বিতীয় প্রজন্মের পরিচয়-

বোস্টন এলাকায় জন্মানো বা ছোটবেলা থেকে বেড়ে ওঠা দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশিদের পরিচয় জটিল। তারা যেমন আমেরিকান, তেমনি বাংলাদেশি। বাংলা ভাষা অনেকেরই বলা ও বোঝার মধ্যে সীমাবদ্ধ, লেখাপড়ায় দক্ষতা কম। কিন্তু বাংলা-ও-বিশ্বের মতো সংগঠনের মাধ্যমেই তারা শেকড়ের সাথে যুক্ত থাকার চেষ্টা করে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, পূজার আয়োজন, নাটক, গান-এসবের মাধ্যমে তারা নিজেদের ঐতিহ্যকে ধারণ করে।


 

বাংলা-ও-বিশ্বের দ্বিতীয় প্রজন্মের সদস্যরা সংগঠনের তরুণ অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশ । তাদের জন্য বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস চর্চা শুধু বাবা-মায়ের ঐতিহ্য নয়, নিজেদের পরিচয়েরও অংশ।


 

মাতৃভাষার জন্য লড়াই-

বাংলা-ও-বিশ্বের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা ১৯৬০-এর দশকের শেষে অভিবাসন করেছিলেন । তখন তাঁদের কাছে নিজেদের সংস্কৃতি ধরে রাখার উপায় ছিল সীমিত। আজ সেই বাস্তবতা বদলেছে। সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, বাংলা টিভি চ্যানেল; সবকিছু প্রবাসীদের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির সংস্পর্শে রাখতে সাহায্য করছে।


 

তবু বড় চ্যালেঞ্জ হলো; দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি কতটা টিকিয়ে রাখা যায়। বাংলা-ও-বিশ্বের সদস্যরা একে অপরের সাথে বাংলায় কথা বলেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেন, শিশুদের জন্য বাংলা শিক্ষার উদ্যোগ নেন । প্রতিটি পূজা, নববর্ষ উদযাপন, পিকনিক; এসব যেন হারিয়ে যাওয়ার মুখে দাঁড়ানো এক সাংস্কৃতিক সত্ত্বাকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই।


 

অষ্টম অধ্যায়: পরিবহন ও অবকাঠামো; শহরের স্পন্দনটি-র যাত্রী-

বোস্টনের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা শহরের প্রাণ। ‘টি’ (T) নামে পরিচিত সাবওয়ে ব্যবস্থা আমেরিকার সবচেয়ে পুরনো। ১৮৯৭ সালে দেশের প্রথম সাবওয়ে চালু হয় বোস্টনে। বর্তমানে রেড লাইন, অরেঞ্জ লাইন, ব্লু লাইন, গ্রিন লাইন; চারটি লাইনের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত সংযুক্ত। বাস ও কমিউটার রেল ব্যবস্থাও বিস্তৃত। যদিও মাঝে মাঝে পুরনো অবকাঠামোর কারণে দেরি বা সমস্যা দেখা দেয়, তবুও এটি একটি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা।


 

ঐতিহাসিক রাস্তা-

বোস্টনের রাস্তাগুলো ঐতিহাসিকভাবে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। উপনিবেশিক আমলের ঘুরানো সরু রাস্তাগুলো আজও শহরের চরিত্র। ফ্রিডম ট্রেইল (Freedom Trail) হলো ২.৫ মাইল দীর্ঘ একটি পথ, যা শহরের ১৬টি ঐতিহাসিক স্থানকে সংযুক্ত করেছে । বোস্টন কমন থেকে শুরু করে বাঙ্কার হিল মনুমেন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত এই পথ ধরে হাঁটলে মনে হয় যেন ইতিহাসের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি।


 

ইতিহাসের পথ ধরে আগামীর পথে-

বোস্টন শুধু একটি শহর নয়; এটি একটি অভিজ্ঞতা। ১৬৩০ সালে কয়েকটি পিউরিটান পরিবারের ছোট বসতি থেকে শুরু করে আজ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবনী কেন্দ্রে পরিণত হওয়া; এই পথচলা এক অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী।


 

যে শহরে আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, যে শহরের বন্দর থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল বিপ্লবের আগুন, সেই শহরেই আজ বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত বায়োটেক কোম্পানিগুলো কাজ করছে। যে শহরে প্রথম পাবলিক স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই শহরেই আজ বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দু।


 

একজন প্রবাসী হিসেবে এই শহরের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো; এই শহর আপনাকে সুযোগ দেয়, কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানো সম্পূর্ণ আপনার ওপর নির্ভর করে। এখানে কেউ কাউকে কিছু হাতে তুলে দেয় না; পরিশ্রম, ধৈর্য এবং দক্ষতার মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়।


 

হাজার মাইল দূরে থেকেও, বোস্টনের কোনো এক কোণে যখন বাংলা ভাষায় কথা বলা মানুষদের দেখা যায়, তখন মনে হয়; পৃথিবীটা আসলে এত বড় নয়। বাংলা-ও-বিশ্বের দুর্গাপূজায় যখন ঢাকের শব্দে মেতে ওঠে সবাই, তখন কলকাতা কিংবা ঢাকার পুজোর কথা মনে পড়ে। যখন শীতের সকালে বোস্টন কমনে কুয়াশার চাদর নামে, তখন ঢাকার সকালের কথা মনে পড়ে। যখন বোস্টন harbour-এর পাড়ে দাঁড়িয়ে ১৭৭৩ সালের সেই চা ফেলার ঘটনার কথা ভাবি, তখন মুক্তিযুদ্ধের আগুনঝরা দিনগুলোর কথা মনে পড়ে।


 

ইতিহাসের পথ ধরে এগিয়ে চলা এই শহরটি প্রতিদিন নতুন করে লেখে তার গল্প। আর সেই গল্পের পাতায় যুক্ত হয় নতুন নতুন অধ্যায়; বাংলা-ও-বিশ্বের দুর্গাপূজার অধ্যায়, ডোরচেস্টারের বাংলা সাইনবোর্ডের অধ্যায়, কেমব্রিজের গবেষণাগারে বসে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারের অধ্যায়।


 

বোস্টন মানে ইতিহাস। বোস্টন মানে শিক্ষা। বোস্টন মানে সংগ্রাম ও সম্ভাবনার এক অনন্য মেলবন্ধন। আর এই শহরেই হারিয়ে যায় না বাংলার স্পর্শ।


 

তথ্যসূত্র:

১. Wikipedia. "Timeline of Boston." 

২. The Boston Globe. "‘A little bit more certainty’: After shaky years, Mass. life sciences companies find glimmers of hope." 9 January 2026. 

৩. The Pluralism Project. "Bangla-O-Biswa." Harvard University. 

৪. Mass.gov. "Healey-Driscoll Administration Advances North Station Draw One Bridge Replacement Project, Job Creation." 5 March 2026. 

৫. U.S. News Travel. "Best Times To Visit Boston." 

৬. Wikipedia (Galician). "Historia de Boston." 

৭. Boston.com. "Boston’s innovation economy hits a new milestone in global rankings." 4 March 2026. 

৮. Bangla O Biswa. Facebook page and social media updates. 

৯. Boston.com. "Renovations to Back Bay station are now underway: Here’s what to know." 25 January 2026. 

১০. MAWEB. "What Is The Climate Like In Boston?"