রোকন পাঠান
বিশ্ব অর্থনীতি এখনো ভেঙে পড়েনি। উচ্চ সুদের হার, মূল্যস্ফীতি, যুদ্ধ ও বাণিজ্য-দ্বন্দ্ব সত্ত্বেও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি একধরনের স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে। কিন্তু সেই স্থিতিশীলতার নিচে জমা হচ্ছে গভীর রাজনৈতিক চাপ—যা আগামী দিনের অর্থনৈতিক গতিপথকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে অনুষ্ঠিত World Economic Forum–এর বার্ষিক সম্মেলনে এই বার্তাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন বিশ্ব নেতারা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকাররা এবং শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা।
অর্থনীতি চলছে, রাজনীতি টানছে ব্রেক
ডাভোসে উপস্থাপিত বিশ্লেষণগুলোতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মন্দার আশঙ্কা আপাতত কাটলেও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য যুদ্ধ এবং নির্বাচনী রাজনীতির অনিশ্চয়তা অর্থনীতির ওপর নতুন ধরনের চাপ তৈরি করছে।
বিশ্ব অর্থনীতি এখন আর কেবল সুদের হার বা মুদ্রানীতির ওপর নির্ভরশীল নয়। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, সরবরাহ চেইনের ভাঙন এবং অভিবাসন রাজনীতি—সব মিলিয়ে অর্থনীতি এখন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে।
যুদ্ধ ও বিভাজনের খরচ
ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং তাইওয়ান ঘিরে শক্তি প্রদর্শন বিশ্ব বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। জ্বালানি ও খাদ্য বাজারে সাময়িক স্বস্তি এলেও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নেই।
নির্বাচনের বছর, ঝুঁকির বছর
২০২৬ সালকে অনেক বিশ্লেষকই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের বছর হিসেবে দেখছেন। সুরক্ষাবাদ ও জাতীয়তাবাদ বাড়লে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আশার জায়গা
প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে শক্ত ভিত দিতে পারে—তবে তার জন্য দরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।
বিশ্ব অর্থনীতি টিকে আছে, কিন্তু তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর। সংঘাত বাড়লে ঝুঁকি বাড়বে, সংলাপ বাড়লে সম্ভাবনা।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে