79°F শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয়

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২২
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয়

 বাংলাদেশের ৫৬তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ ও বহুমাত্রিক সম্পর্কের ইতিবাচক দিক আরও একবার উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাইকমিশনারের বাসভবনে আয়োজিত এ মিলনমেলায় পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ভারতের সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি জানান, ১ হাজার ৬৬৮ জন ভারতীয় সেনা বাংলাদেশের মাটিতে জীবন উৎসর্গ করেছেন, যা চিরস্মরণীয়।

হামিদুল্লাহ আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনগণ মুক্তিযুদ্ধের সময় নানাভাবে সহায়তা করেছেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের পাশাপাশি মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার কথাও স্মরণ করেন।

বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের সাংস্কৃতিক ভিত্তি তুলে ধরে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, সত্যেন বোস, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ও পণ্ডিত রবিশঙ্করের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ভবিষ্যতে ২৮-৩০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে।

অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বাংলাদেশের নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করতে ভারত আগ্রহী এবং এ লক্ষ্যে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। রেড কার্পেট সংবর্ধনা, আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। অতিথিদের আপ্যায়নে পরিবেশন করা হয় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কাচ্চি বিরিয়ানি।

অনুষ্ঠানে ভারতের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনীতিক, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আয়ার, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর, পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি, মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়ালসহ আরও অনেকে।

বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী আশিস নন্দী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ধীরে ধীরে এগোচ্ছে এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।