রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রপ্রধানের দায়মুক্তি ও বলপ্রয়োগের নিষেধাজ্ঞা—মাদুরো আটক আন্তর্জাতিক আইনের কোন কোন মৌলিক স্তম্ভকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে
রোকন পাঠান । বস্টন, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক ও বিশেষ বাহিনীর অভিযানে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে দেশটির ভূখণ্ডের বাইরে নিয়ে গেছে। এই দাবি সত্য হলে, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আইনে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
আন্তর্জাতিক আইনের অন্যতম ভিত্তি হলো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব। জাতিসংঘ সনদের Article 2(4) অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করতে পারে না। এই ঘটনায় ভেনিজুয়েলার সম্মতি বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের কোনো তথ্য সামনে আসেনি। ফলে এটিকে সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র আত্মরক্ষার যুক্তি তুলে ধরলেও আন্তর্জাতিক আইনে আত্মরক্ষার শর্ত অত্যন্ত কঠোর। একজন ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক করা সেই মানদণ্ড পূরণ করে কি না—তা নিয়ে আইনবিদদের মধ্যে গভীর বিতর্ক চলছে।
চলমান দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রপ্রধান সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রের আদালত ও হস্তক্ষেপ থেকে দায়মুক্তি ভোগ করেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে ব্যতিক্রম থাকলেও সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বা বহুপাক্ষিক আইনি কাঠামো অনুসরণ করা হয়। এই অভিযানে সেই প্রক্রিয়া মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইনগতভাবে কোনো ব্যক্তিকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে নেওয়ার বৈধ পথ হলো আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ। যদি সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না হয়ে থাকে, তবে ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইনে রাষ্ট্রীয় অপহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ ও রাষ্ট্রপ্রধানের দায়মুক্তি নীতির সঙ্গে সংঘর্ষে যাচ্ছে। এটি একটি বিপজ্জনক ও বিতর্কিত দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে