64°F বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

আইসিইর অভিযানে আটক পাঁচ বছরের শিশু ও বাবাকে মুক্তির নির্দেশ মার্কিন আদালতের

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ০১ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ১৪
আইসিইর অভিযানে আটক পাঁচ বছরের শিশু ও বাবাকে মুক্তির নির্দেশ মার্কিন আদালতের

আইসিইর অভিযানে আটক পাঁচ বছরের শিশু ও বাবাকে মুক্তির নির্দেশ মার্কিন আদালতের
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী অভিযান চলাকালে আটক পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু ও তার বাবাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। টেক্সাসের একটি পারিবারিক আটককেন্দ্রে রাখা এই বাবা-ছেলেকে আটকের ঘটনাকে বেআইনি বলে উল্লেখ করেছেন বিচারক।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক ফ্রেড বিয়েরি রায়ে বলেন, শিশু লিয়াম কোনেহো রামোসকে আটক করার পদ্ধতি আইনসঙ্গত নয়। তিনি নির্দেশ দেন, লিয়াম ও তার বাবাকে দ্রুত আটককেন্দ্র থেকে ছেড়ে দিতে হবে।

সম্প্রতি মিনিয়াপোলিস শহর থেকে অভিবাসন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) পাঁচ বছর বয়সী লিয়াম ও তার বাবাকে আটক করে। ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ছবিতে দেখা যায়, নীল রঙের টুপি ও ব্যাকপ্যাক পরা শিশুটিকে আইসিই কর্মকর্তারা নিয়ে যাচ্ছেন।

আদালতের রুলে বিচারক বিয়েরি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জটিল অভিবাসন আইনের কারণে আবেদনকারীদের শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে—স্বেচ্ছায় কিংবা বাধ্য হয়ে। তবে এই প্রক্রিয়া বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও মানবিক হওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন।

মিনেসোটায় চলমান অভিযানকে এখন পর্যন্ত আইসিইর সবচেয়ে বড় অভিযান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শুধু মিনিয়াপোলিস শহরেই প্রায় তিন হাজার আইসিই সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এই অভিযানের ফলে অভিবাসন অধিকারকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। ইতিমধ্যে আইসিই সদস্যদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

আইসিইর কঠোর অভিযানের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মিনিয়াপোলিসের কলাম্বিয়া হাইটস এলাকার স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত এক মাসে ওই এলাকায় অন্তত চার শিক্ষার্থীকে অভিবাসন কর্মকর্তারা আটক করেছেন। লিয়াম তাদেরই একজন।

স্কুল জেলার তত্ত্বাবধায়ক জেনা স্টেনভিক জানান, ২০ জানুয়ারি আইসিই সদস্যরা শিশুটিকে বাড়ির সামনে থাকা একটি চলন্ত গাড়ি থেকে নামান। এরপর তাকে বাড়ির দরজায় গিয়ে কড়া নাড়তে বলা হয়। তাঁর অভিযোগ, পরিবারের অন্য সদস্যদের ধরতে শিশুটিকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে কেন্দ্রীয় সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, শিশুটির নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই আইসিই কর্মকর্তারা তার পাশে ছিলেন। কারণ, ওই সময় তার বাবাকে আটক করায় শিশু একা হয়ে পড়েছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিনেসোটায় আইসিইর অভিযানকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি শিশুদের জন্য মানসিকভাবে কষ্টকর হলেও শুধু মা–বাবা হওয়ার কারণে কেউ আইন থেকে অব্যাহতি পেতে পারে না।

এর আগে আইনজীবীদের বরাতে জানা যায়, লিয়াম ও তার বাবা ইকুয়েডরের নাগরিক। তারা দুজনেই যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন এবং আবেদন প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় দেশটিতে বৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। আটকের পর তাদের টেক্সাসের ডিলি এলাকায় একটি পারিবারিক আটককেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।